গড়িয়ে পড়লো লেবু, দেখল ৯২ লাখ মানুষ

একটা বস্তু মাটিতে পড়ে কতক্ষণ গড়াতে পারে সে হিসাব আমরা কখনো করে দেখিনি। দেখার খুব একটা প্রয়োজন পড়েও না। কিন্তু ধরুন, মাটিতে একটি লেবু বাধাহীনভাবে গড়াচ্ছে তো গড়াচ্ছেই। তাও প্রায় দুই মিনিট ধরে! সেই গড়িয়ে পড়ার ভিডিও টুইটারে পোস্ট করে সাধারণ ব্যক্তিও হয়ে উঠেছে অসাধারন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আজ পর্যন্ত অনেক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেই ভিডিওর কিছুসংখ্যক ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে, কোটি কোটি লোক তা দেখেছেও। কিন্তু লেবু গড়িয়ে পড়ার এই দৃশ্য যে এতবার কেউ দেখবে, আর তা দেখে ভিডিও পোস্টকারী মাইক সাকাসেগাওয়া রীতিমত সেলিব্রিটি হয়ে যাবে সেটা তিনি নিজেও বোঝেননি। তাঁর মাত্র চার-পাঁচদিন আগে আপলোড করা সেই ‘লেমন ভিডিও’ পেয়েছে প্রায় ১ কোটি ভিউজ। ৯২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ এরই মধ্যে ভিডিওটি দেখেছে।

মাইকের টুইটার অ্যাকাউন্ট অনুযায়ী তিনি একজন লেখক, ফোটোগ্রাফার ও পডকাস্টার। শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা পোস্ট করেন তিনি। একদিন পথ চলতে গিয়ে খেয়াল করলেন একটি লেবু গড়িয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। প্রায় সিকি মাইল পর্যন্ত সেটি গড়িয়ে গেলো। মাইকও সেটির পিছু পিছু করে ফেললেন ভিডিও। সেই ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওটি আপলোড করে দেন নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে। আর এই ভিডিওর কারণেই মাইকের ফলোয়ারের সংখ্যা এখন সেই হারে বেড়ে চলেছে।

ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক নিয়ে কেন এত আগ্রহ?

সব সংশয়ের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন আজ। ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠক নিয়ে আগ্রহ ও কৌতুহল রয়েছে গোটা বিশ্বের। কিন্তু কেন এত আগ্রহ এই বৈঠককে ঘিরে? এর উত্তর পেতে হলে সাম্প্রতিক বিশ্ব রাজনীতির ঘটনাবলির সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসের দিকেও একটু ফিরে তাকাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক

১৯৪৫ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে বৈরিতা তো ছিলোই, এমনকি সোভিয়েত ভেঙ্গে যাবার পরেও তাদের মধ্যকার সম্পর্কে উষ্ণতা দেখা যায়নি কখনো।

সোভিয়েত পরবর্তী যুগে রাশিয়ার ক্ষমতার পরিধি অনেকটাই কমে যায়। তবে বর্তমানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর দেশকে আবারও মহাশক্তিধর হিসেবে প্রমাণ করতে চান বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। এ নিয়ে কখনো কখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে যেতেও দেখা গেছে দেশটিকে।

২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়াকে আলাদা করে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার পর রুশ-মার্কিন সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। তখন কয়েকটি মিত্র দেশসহ যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে। বিশ্বরাজনীতির আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে দ্বৌরথ চলছিলোই। তবে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুতিনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ সেই সম্পর্ক আরও খারাপ করে তুলেছে।

ট্রাম্প-পুতিন: শত্রু নাকি বন্ধু?

যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের পর বিশ্বরাজনীতির এই দুই আলোচিত ও সমালোচিত নেতার সম্পর্কের বিষয়টি গোটা বিশ্বের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ওই হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও মনে করে নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পেছনে পুতিন কলকাঠি নেড়েছিল।

সন্দেহ আরও দানা বাঁধে, যখন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রচলিত রিপাবলিকান নীতির অনেকটা বিপরীতে গিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের আকাঙ্ক্ষার কথা জানান ট্রাম্প। এছাড়া কিছুদিন আগে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, জি সেভেন গ্রুপে রাশিয়াকে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সমর্থন দেন তিনি। যার ফলে কয়েকটি মিত্র দেশের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় ট্রাম্পকে।

একে অপরের সম্পর্কে মন্তব্য কী?

অনেকে বলেন, নিজেকে ছাড়া খুব কম মানুষেরই প্রশংসা করে থাকেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মজার ব্যাপার হলো, সেই গুটিকয়েক মানুষের মধ্যে পুতিন একজন। ২০১৬ সালে ট্রাম্প বলেন, ‘পুতিন খুব ভালো নেতা।`

চলতি বছরের মার্চে বিতর্কিত নির্বাচনে পুতিনের জয়ে অভিনন্দনও জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও তার উপদেষ্টারা তা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তাকে।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের মন্তব্য হলো, ‘ট্রাম্প খুবই উজ্জ্বল একজন ব্যক্তিত্ব। একই সঙ্গে তিনি বুদ্ধিমান এবং বহুমাত্রিকও বটে।’

আলোচনার বিষয়বস্তু

কিছুদিন আগে ২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের সময় হ্যাকিংয়ের দায়ে ১২ রুশকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, রাশিয়ার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ইউক্রেন এবং সিরিয়ার যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হতে পারে। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, এই বৈঠকের কোনো আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা নেই।

মিত্ররা উদ্বিগ্ন?

দুই শত্রু মিলিত হলে তাদের মিত্ররা উদ্বিগ্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই বৈঠককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মিত্রদেশগুলোর মনোভাব নিয়েও বিশ্বের কৌতুহল রয়েছে। ইউরোপীয় মিত্ররা বলছেন, হেলসিংকি বৈঠক থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে কি অর্জন করতে চাইছেন তা তাদের জানানো হয়নি।

সিরিয়া, ইউক্রেন, ক্রিমিয়াসহ অনেক জটিল বিষয়ে পরস্পর বিরোধী অবস্থানের জন্য তো বটেই, বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের কারণেও বৈঠকটির আকর্ষণ রয়েছে বিশ্বজুড়ে। দুই নেতার পারস্পারিক আলোচনার পরে দুই দেশের সম্পর্ক কোথায় পৌঁছাবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিএনপির সঙ্গে বসতে আ. লীগের পাঁচ শর্ত

সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমামসহ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। আর গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরেরে সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। দুটি আলোচনাতেই বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ও এতে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে আলাপ হয়েছে। জানা গেছে, কূটনৈতিক ভাবে বিভিন্ন দেশ ও জোট ক্ষমতাসীন দলকে চাপ দিচ্ছে। অনুরোধ করা হচ্ছে, যেন নির্বাচনের আগে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপের সূচনা করা হয়। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক যেন হয় সেই কথা বলছে ইইউ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে ওবায়দুল কাদের এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যাওয়া এইচ. টি. ইমাম কূটনীতিকদের কাছে বিএনপি সঙ্গে আলোচনায় যেতে পাঁচটি শর্ত দিয়েছেন।

১. বিএনপি গঠনতন্ত্র থেকে বাদ দেওয়া ৭ ধারা পুনর্বহাল করতে হবে। বিএনপির নেতৃত্ব হতে হবে দুর্নীতিমুক্ত। দুর্নীতিবাজ কোনো নেতৃত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে কোনো সংলাপ করতে পারে না।

২. যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে বিএনপিকে। যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী এবং জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিএনপি নিবিড় যোগাযোগ। উগ্র মৌলবাদী, যুদ্ধাপরাধী, দেশদ্রোহীদের দোসর কারও সঙ্গে আওয়ামী লীগ বৈঠকে বসতে পারে না।

৩. বিএনপি এখনো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকার করে না এবং শোক দিবস পালন করে না। অথচ সংবিধানিক ভাবেই এটি স্বীকৃত। বিএনপিকে যদি বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হয়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ করতে হয় তাহলে অবশ্যই জাতির পিতাকে স্বীকার করে নিতে হবে। এই দিনে শোক দিবস পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ১৫ আগস্টে বেগম জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন করা যাবে না। ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার সব ধরনের উৎসব বাতিল করতে হবে।

৪. বিএনপিকে বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। অন্যায্য ও অযৌক্তিক কোনো দাবি নিয়ে আলোচনা হতে পারে না। আলোচনা হতে হবে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন। সাংবিধানিক বহির্ভূত কোনো নির্বাচন বা কোনো কথা গ্রহণযোগ্য হবে না।

৫. বিএনপিকে নিয়ে সংলাপ হবে নির্বাচন কীভাবে আরও সফলভাবে করা যায় তা নিয়ে। নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে কোনো সংলাপ হবে না। নির্বাচন কীভাবে ভালো করা যায় তা নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে যাওয়ার অঙ্গীকারপূর্বক বিএনপিকে সংলাপে যেতে হবে।

জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ঢাকাস্থ অফিসকে সংলাপের শর্তগুলো জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে আজ রোববার বা কাল সোমবার বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট। দুটি মাধ্যমেই বিএনপিকে আওয়ামী লীগের শর্তগুলোর কথা জানানো হবে।

আওয়ামী লীগের দেওয়া শর্তগুলো বিএনপি মেনে সংলাপে যেতে চাইলে সেই কথা ইইউ প্রতিনিধি ও মার্কিন দূতাবাস মারফত আওয়ামী লীগকে জানানো হবে। আর এরপরই হতে পারে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংলাপ।

শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস আজ

আজ ১৬ জুলাই। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস। কথিত এক দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে দুর্নীতির মিথ্যা মামলায় ২০০৭ সালের এই দিনে তৎকালীন অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকেই অবরুদ্ধ করে ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধয়াক সরকার। শেখ হাসিনার গ্রেপ্তার ছিল জনগণের কণ্ঠস্বর রোধ করে দেওয়ার, জনগণের অধিকার হরণের এক প্রক্রিয়া।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতির এই ন্যাক্কারজনক গ্রেপ্তারের ঘটনা ছিল জনগণের অধিকার হরণের প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ। এর শুরুটা হয় ২০০১ সালের ১ অক্টোবর, যখন প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পরপরই দেশে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা দেশব্যাপী হত্যা, লুণ্ঠন, লুটতরাজ, নিপীড়নের নারকীয় উৎসব শুরু করে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নাভিশ্বাস ওঠে জনগণের। এক স্বপ্নহীন, নৈরাশ্যের যুগের সূচনা হয় দেশে। বিএনপি সরকার দেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র, একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলে। সে সময়ই বাংলা ভাইয়ের মতো জঙ্গির উত্থান হয়। নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে আহসানউল্লাহ মাস্টার, শাহ এম এস কিবরিয়ার মতো আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতাদের জঙ্গি স্টাইলে হামলা করে হত্যা করে তাঁরা। কিন্তু যতদিন জনগণের কণ্ঠস্বর, গণতন্ত্রের প্রতীক শেখ হাসিনা বাংলাদেশে থাকবেন ততদিন দেশকে পাকিস্তান বানানোর স্বপ্ন ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বপ্ন সফল হবে না বুঝতে পেরে বিএনপি-জামাত গণতন্ত্রের সুরক্ষা কবচ শেখ হাসিনাকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করে। এ উদ্দেশ্যে তারা ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলা করে। এ হামলায় ২৪ জন নিহত হন যাদের মধ্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানে স্ত্রী আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী মিসেস আইভী রহমানও ছিলেন। তবে সৌভাগ্যজনক ভাবে বেঁচে যান শেখ হাসিনা।

এরপর ২০০৬ সালের ৬ অক্টোবরে অষ্টম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে টালবাহানা শুরু করে। দেশে এক অনিশ্চয়তার পরিস্থিতির সূচনা হলে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ সারাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। একই সঙ্গে বিএনপি মনোনীত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে প্রধান উপদেষ্টা করে একটি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়। সে সময়কার সেনাবাহিনীর প্রধান মঈন ইউ আহমেদও ছিলেন বিএনপির মনোনীত সেনাপ্রধানই। বিএনপির নিজেদের লোকদের ক্ষমতায় বসানোর উদ্দেশ্য ছিল আবার ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করা ও শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে কোণঠাসা করে ফেলা।

এই অগণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর একমাত্র শেখ হাসিনাই বারবার দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন। একমাত্র শেখ হাসিনাই গণতন্ত্রের দাবিতে, জনগণের ভোটের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। ফলে তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের জন্য ঝুঁকি মনে করতে থাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এ কারণেই ক্ষমতায় আসার মাত্র ৬ মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই অন্ধকার ভোরে র‌্যাব, পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বুটের তলায় পিষ্ট হয় গণতন্ত্র।

গ্রেপ্তার করে শেখ হাসিনাকে নিম্ন আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক শেখ হাসিনাকে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে বন্দি রাখা হয়। ওই কারাগারেই মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ১১ মাস বন্দী থাকেন শেখ হাসিনা। বিশেষ কারাগারের পাশেই সংসদ ভবন চত্বরে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করে তাঁর বিচার প্রক্রিয়াও শুরু করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

কিন্তু সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। উত্তাল আন্দোলন ও শেখ হাসিনার প্রতি দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন ও অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে তৎকালীন অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তখন থেকে ১১ জুনকে শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

কারামুক্তির পর প্রথমেই তিনি ভীষণ -২০২১ প্রকাশ করেছেন যা জনগণ সাদরে গ্রহণ করে। ফলে ২০০৮ এর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জনতা নিরঙ্কুশ রায় দেয় শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের পক্ষে। নির্বাচনে এই বিজয় লাভই প্রমাণ করে শেখ হাসিনা জনতার মধ্যে কতটা জনপ্রিয় এবং তাঁকেই মানুষ নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জাদুকর হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পনেরোই আগস্টে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ায় সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক চেতনায় সমুন্নত বাংলাদেশ তিনি দেখে যেতে পারেননি। জাতির পিতার এই অসম্পূর্ণ স্বপ্নই এখন পূরণ করে চলেছেন শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনিই গণতন্ত্রের চালিকাশক্তি ও হৃদপিণ্ড। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ওপর থেকে কোনো কারণে যদি শেখ হাসিনার কর্মক্ষম ও স্নেহময় হাত উঠে যায় তবে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা মুখ থুবড়ে পড়বে, বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানে পরিণত করার যে স্বপ্ন এখনো বিএনপি-জামাত দেখে চলেছে তাও বাস্তবে পরিণত হবে।

এ কথা অনস্বীকার্য, শেখ হাসিনাই বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লিখিয়েছে। উন্নয়নের পথে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে জারি রাখতে হলে শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য খুবই প্রয়োজন। উন্নয়নের যে উদ্দীপনা, যে আশা-আকাঙ্ক্ষা জনগণের মধ্যে শেখ হাসিনা সৃষ্টি করতে পেরেছেন তা টিকিয়ে রাখতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

‘আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনে ভোট কারচুপির আভাস’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, খুলনা ও গাজীপুরের মতোই আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও সুষ্ঠু ভোট কারচুপির আভাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

আজ সোমবার বেলা সা‌ড়ে ১১টার দি‌কে রাজধানীর নয়া পল্ট‌নে দ‌লের কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে রুহুল কবির রিজভী একথা বলেন।

খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর পরিবারের কারাগারে দেখা করতে না দেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ ও কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলারও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান ছাড়াও দলটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দীন আল মামুন ও শওকত মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

কমিটির বিরোধ নিয়ে মির্জা ফখরুলকে আবারও চিঠি

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৫টি থানা এবং ৫৮টি ওয়ার্ডের কমিটি বাতিল করতে উত্তর বিএনপির নেতাদের একাংশ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আবারও চিঠি দিয়েছে। একইসঙ্গে এসব থানা এবং ওয়ার্ডের কমিটির জন্য নতুন একটি তালিকাও তারা মির্জা ফখরুলকে দিয়েছেন।

রবিবার (১৫ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট মহানগর কমিটির মধ্যে ৩২ জন গিয়ে এই চিঠি দেন। তবে ওই সময় কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিবকে না পেয়ে দলের সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর কাছে চিঠি হস্তান্তর করেছেন মহানগরের নেতারা। এর আগে গত ১৮ জুন বিএনপির মহাসচিবের উত্তরার বাসায় নগরের নেতারা সাক্ষাৎ করে কমিটিগুলোর নেতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে তাইফুল ইসলাম টিপু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার কাছে একটি চিঠি দিয়ে গেছে। তবে কিসের চিঠি আমি দেখিনি। কারণ এটি মহাসচিবকে দেওয়া হয়েছে। আমি চিঠিটি মহাসচিবের ফাইলে রেখে দিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, গত ৩ জুন রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৫টি থানায় ১২১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ থানা কমিটি এবং ৫৮টি ওয়ার্ডে ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্ড কমিটি অনুমাদন দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান এসব কমিটি অনুমোদন করেন।

এতে সংক্ষুব্ধ নেতারা ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে ঘোষিত থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি, পদ বাণিজ্য ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলেন। তারা বলেন, ‘সভাপতি এম এ কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, সিনিয়র সহ- সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম তাদের পছন্দের লোকদের থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে পদ দিয়েছেন। এই চার নেতার পছন্দের বাইরে কমিটি গঠনে অন্য নেতাদের মতামত প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। বিগত দিনের আন্দোলনে নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়া হয়েছে কমিটিগুলোতে। এসব কমিটিতে নেতাদের দেহরক্ষী, মাদক ‘ব্যবসায়ী’, সরকারি চাকরিজীবী ও দলে নিষ্ক্রিয়দের পদ দেওয়া হয়েছে। তাই এসব কমিটি বাতিল করে নতুন করে আবারও কমিটি গঠন করার দাবি জানানো হয়েছে।’

বিদ্রোহী নেতারা বলেন, এত দিনেও দলের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় মহাসচিবের কাছে দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছে। শুধু মহাসচিব নয়, গত এক মাসে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চেীধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অনেক নেতার কাছে আমরা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’

উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এর আগে গত ১৮ জুন মহাসচিবের সঙ্গে তার বাসায় দেখা করেছি। তখন কমিটি গঠনের অনিয়মগুলো তার কাছে তুলে ধরেছি। তিনি আমাদের সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু এত দিনে সমাধান না হওয়ায় আজকে আবার চিঠি দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, আজকে আমরা নয়াপল্টন গিয়েছিলাম। কিন্তু মহাসচিবকে না পেয়ে দলের সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর কাছে চিঠি দিয়ে এসেছি। চিঠি সঙ্গে আমরা এসব থানা এবং ওয়ার্ডের জন্য নতুন একটি কমিটির তালিকা দিয়েছি।

মাঠে নামছেন মান্না-মাহী

দুই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে মাঠে নামছেন চার দলীয় যুক্তফ্রন্টের প্রভাবশালী দুই নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না ও মাহী বি চৌধুরী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আমলে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করবেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। আর মাহী বি চৌধুরী আসছেন ‘প্রজন্ম উদ্যোগ’ নিয়ে। দুই উদ্যোগেই যুক্তফ্রন্টসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে যুক্ত করার আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করবেন মান্না

মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাহমুদুর রাহমান মান্নার উদ্যোগে ‘ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট স্টেট করাপশন’ আত্মপ্রকাশ হবে। মূলত অনলাইনের মাধ্যমেই এর প্রচারণার মূলপর্বটি পরিচালিত হবে।

এ প্রসঙ্গে রবিবার বিকালে মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশজুড়ে ভয়াবহ যে দুর্নীতি চলছে, তার বিরুদ্ধে অনলাইনে ক্যাম্পেইন হবে।এই সরকারের সময়ে তো কোনও বৈঠক বা সমাবেশ করা যায় না, সে কারণে মূলত অনলাইনেই এ কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে।’

জানা গেছে, ‘ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট স্টেট করাপশন’ এর মূল স্লোগান ‘দুর্নীতির মহোৎসবে দেশ।’ এই ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সারাদেশে পোস্টার, লিফলেট ও অনলাইনে পেজ ওপেন করা হবে।

মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, সাধারণ সরকারি চাকুরিতে ৭/৮ লাখ টাকা ঘুষ লাগে। প্রতিবছর দেশ থেকে পাচার হচ্ছে একলাখ কোটি টাকা। মেগা প্রকল্পের বাইরে প্রতিবছর কমপক্ষে ৭৫ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এই ক্যাম্পেইনে পদ্মা সেতুর বাজেট বৃদ্ধিকরণ, রেল নির্মাণে ব্যয়, ভারতের সঙ্গে তুলনাসহ সড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণে অত্যধিক ব্যয় এবং ব্যাংকের দুর্নীতিগুলোর বিষয়েও বলা হবে।

প্রজন্ম উদ্যোগ করছেন মাহী বি চৌধুরী

যুক্তফ্রন্টের কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের সমন্বয়ে ‘প্রজন্ম উদ্যোগ’ করছেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী। সমসাময়িক বিভিন্ন পেশার দায়িত্বশীলরা তার এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হবেন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্র তারকা, তরুণ ব্যাংকারসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত আরও অনেকে যুক্ত হবেন।

জানা গেছে, ‘প্রজন্ম উদ্যোগ’ যুক্তফ্রন্টের পলিটিক্যাল কো-অর্ডিনেশনের দায়িত্ব পালন করবে। জোটের প্রোগ্রামগুলোর আয়োজন, মিডিয়া কভারেজ, ক্রিয়েটিভ ওয়ার্ক, পোস্টার, ডিজাইনসহ এ ধরনের কাজগুলো দেখভাল করবে তারা। ইতোমধ্যে মাহী বি চৌধুরীর বাসায় ‘উদ্যোগ’র সঙ্গে জড়িতদের একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রজন্ম উদ্যোগের মূল উদ্যোক্তা ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রজন্ম উদ্যোগ মূলত ইয়ঙ্গার লেবেলে কাজ করবে, তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করতেই এ উদ্যোগ। যারা শুধুমাত্র কোনও দল বা নেতার পেছনে নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারসাম্য তৈরি করতে সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে থাকবেন।’

‘ভোট কারচুপির সুস্পষ্ট আভাস দিলেন ওবায়দুল কাদের’

তিন সিটির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সুষ্ঠু ভোট কারচুপির সুস্পষ্ট আভাস দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের রবিবার বলেছেন- খুলনা ও গাজীপুরের মতো তিন সিটিতেও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি সুষ্ঠু ভোট কারচুপির সুষ্পষ্ট আভাস দিলেন। তিন সিটিতে নৌকা মার্কার পক্ষে নির্বাচনি অনাচার আর ক্ষমতাসীনদের অবৈধ দাপট চলছে।’

সোমবার (১৬ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেনে।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে ২০ জুলাই নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অথবা প্রেসক্লাবে ৩টায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘তিন সিটিতে গ্রেফতার ও গ্রেফতারের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য প্রচণ্ড মহড়া চলছে। রাজশাহী সিটিতে আওয়ামী নেতাদের নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষের অফিস ভাঙচুর করেছে। এমনকি জেলা প্রশাসক নৌকা মার্কার অনুকূলে চরম পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন।’

মন্ত্রীর পদমর্যাদায় থাকা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ তার ছেলেকে বিজয়ী করার জন্য বরিশালে নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করছেন বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। রিজভী বলেন, ‘তিনি কোনও নির্বাচনি আচরণবিধিই মানছেন না। মোট কথা তিন সিটিতেই সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বিদ্যমান নেই, নিরাপদে ভোট দিতে পারবে কিনা ভোটারদের মধ্যে এখনও সেই শঙ্কা। নির্বাচন কমিশনের কাছে ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হলেও সেগুলো আমলে নিচ্ছে না।’

‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের নামে কিছু হচ্ছে কিনা জানতে হবে’ ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘নিজ দলের অনাচার ও অপকর্ম তার না জানার বা চোখে না পড়ারই কথা। কারণ ছাত্রলীগকে রক্তের নেশা পাইয়ে দিতে উৎসাহিত করেছে আওয়ামী নেতারাই। আপনারা যদি জনসমর্থিত সরকার হতেন তাহলে বুঝতেন যে দেশের সর্বত্র ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে জনগণের কী পরিমাণ ধিক্কার উঠেছে। নির্যাতিত ছাত্রীদের মর্মস্পর্শী বর্ণনা আক্রমণকারীদের সম্পর্কে জনগণের ঘৃণার প্রকাশ তীব্র মাত্রা লাভ করেছে।’

রবিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। একইসঙ্গে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ শুধু উদাসীনই নয়, সরকারের নির্দেশে কোনও ভয়ঙ্কর মাস্টারপ্ল্যানের দিকে এগুচ্ছে কিনা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেছেন বেগম জিয়ার অসুস্থতা নাকি বাহানা। ৭৩ বছর বয়স্ক অসুস্থ নারীর প্রতি নারী প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের ব্যাঙ্গোক্তি নারী জাতির জন্য কলঙ্ক। তার অসুস্থতা এতটাই গুরুতর যে, তিনি নীচতলায় অপেক্ষমাণ স্বজনদের কথা জানতে পেরেও দোতলার নিজ কক্ষ থেকে নেমে আসতে পারেননি।’

আবার মাঠে নামতে চান কিংবদন্তি পেলে

৬০ বছর আগে করা পেলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন ১৯ বছর বয়সী ফরাসী তরুণ এমবাপ্পে। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির পর সবচেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করার রেকর্ড ছুঁলেন এমবাপ্পে। তরুণ এই স্ট্রাইকারে পেলে এতটাই মুগ্ধ যে সর্বকালের সেরা ফুটবলার আরেকবার বুটজোড়া পায়ে মাঠে নামতে চান।

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের পর খানিকটা মজা করেই পেলে বলেছেন, এমবাপ্পে এভাবে খেলতে থাকলে তাকেই আবার মাঠে নামতে হবে!

১৯৫৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন পেলে। বিশ্বসেরা হওয়ার পথে সেটাই ছিল প্রথম ধাপ। পেলের মতো এমবাপ্পেও খুব কম বয়সেই খেলতে এসেছেন প্রথম বিশ্বকাপ, ১৯ বছর বয়সী এমবাপ্পে রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজের জাত চিনিয়েছেন ৪ গোল করে। পেলের পর সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে কাল ফাইনালে গোলও করেছেন।

এমবাপ্পে তাকে ছোঁয়ায় দারুণ খুশি পেলে, ‘এমবাপ্পে যদি এভাবে আমার রেকর্ড ছুঁতে থাকে, তাহলে তো আমাকে আবার মাঠে নামতে হবে!’

তিন বিশ্বকাপ জিতে অমরত্ব পেয়েছেন পেলে। শুরুটা হয়েছিল ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতেই। শুরুটা পেলের মতো হয়েছে, এমবাপ্পে কি পারবেন ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ে পেলের পাশে নিজেকে বসাতে?

তারেকের সন্ধান চায় পরিবার

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা মো. তারেক রহমানকে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের দাবি, কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত থাকার জন্যই তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছেলে খুঁজ বলে জানান তারেকের বাবা মো. আব্দুল লতিফ এবং মা শাহানা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল লতিফ বলেন, গত শনিবার তারেকের সঙ্গে শেষ কথা হয় আমার মেয়ের। সে ফোনে বলেছিল তাকে সাদা পোশাকে কেউ অনুসরণ করছে। এই কথার পর থেকে আমরা তার মোবাইল বন্ধ পাই। রোববার দিবাগত রাতে শাহবাগ থানায় তারেকের মা জিডি করতে গেলে ডিউটি অফিসার জানান তারা তদন্ত করে জিডি নিবে।

আব্দুল লতিফ আরও জানান,তারেক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করেছে। ছাত্রজীবনে সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। ঢাকায় সে বিসিএস এর জন্য কনফিডেন্স কোচিং সেন্টারে কোচিং করতো আর থাকতো বাড্ডায় বোনের বাসায়। আমি তাকে বলতাম চাকরি এমনিতেই হবে আন্দোলন করা লাগবে না। সে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করতো। আমি বলতাম তোমার লেখাপড়া শেষ, এখন ক্যাম্পাসের দিকে যাওয়ার দরকার নেই। তবে মিছিল-মিটিং করো। কথা শুনতো না। আমি আমর ছেলের সন্ধান চাই। সে যদি অপরাধ করে থাকে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু তার খোঁজ চাই আমরা।