বিএনপিকে কেউ দমাতে পারেননি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে আলোচনার টেবিলেই। খোলা মন নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে পারলে অবশ্যই দুই দিনেই দেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব।

মৌলিক জায়গাগুলোয় বেশি একটা সমস্যা নেই। সমস্যার মূল হচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকার। আমরা মনে করি, ওই সময় সরকার পরিবর্তন হতে হবে। কোনোভাবেই শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান থাকতে পারবেন না। সংবিধান সংশোধন না করেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। দুই পক্ষকেই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। গোঁ ধরে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। নতুন বছর নিয়ে আশা-নিরাশা দুই ভাবেই বিশ্লেষণ করেন বিএনপি মহাসচিব। এ সময় দলে প্রায় দুই বছর ধরে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনে নিজের কর্মতৎপরতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও চলমান রাজনীতি নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তার মতে, দুই দলকে আলোচনায় বসাতে বাধ্য করতে পারে তরুণ সমাজও। তাদের চুপচাপ দর্শকের মতো বসে থাকার সুযোগ নেই। মহাসচিব হিসেবে দলের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি দলকে গতিশীল করতে।

সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মামলা-হামলা, গুম-খুন সত্ত্বেও নেতা-কর্মীরা আজ উদ্দীপ্ত ও সক্রিয়। এটা ধরে রেখেই আগামী নির্বাচনে যেতে চাই।’ বাংলাদেশ প্রতিদিনের জন্য তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন— মাহমুদ আজহার

নতুন বছরের প্রত্যাশা কী?

বাংলাদেশকে যারা স্থিতিশীল দেখতে চান, তারা এখন খুব একটা আশাবাদী হতে পারছেন না। দেশে এখন একটা অনিশ্চিত অবস্থা বিরাজ করছে তাতে আশাবাদী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিদায়ী বছরটিতে বেশকিছু ক্ষতিকর ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ রোহিঙ্গা ইস্যুটি যুক্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।

ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি চরম পর্যায়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। এরই মধ্যে রেমিট্যান্স ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বিদেশে কর্মী নিয়োগও একেবারেই কমে যাচ্ছে। গার্মেন্টও কিছু মানুষের হাতে জিম্মি। এটাও নিয়ন্ত্রণ করছে বিদেশি শক্তি। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি তাসের ঘরের মতো দাঁড়িয়ে আছে। যে কোনো সময় ধাক্কা লাগলে পড়ে যাবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সামনের বছরেও আশাবাদী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।

দুই মেয়াদে থাকা আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

বর্তমানে যারা ক্ষমতাসীন তারা একটা চালাকি করে, প্রতারণা করে ক্ষমতায় বসে আছে। অন্য কোনো মত-পথ মেনে নিতেই চায় না। আমরা যদি একটু পেছনে তাকাই তাহলে দেখব ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত একটা স্থিতিশীল অবস্থা চলে আসছিল। একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা ছিল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হতে শুরু করে। এতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে যে বিরোধ এর আগে ছিল তা চলেই গিয়েছিল। সব মহলই এ বিষয়টি সুন্দরভাবে গ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে থাকে। তারা সুপরিকল্পিতভাবে বিচার বিভাগকে কাজে লাগিয়ে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাতিল করে একদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে সংবিধান পরিবর্তন করে। তারা সংবিধানকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে আসে, যাতে এক তৃতীয়াংশ নিয়ে কোনো কথাই বলা যাবে না।

অন্যদিকে বাকি সংবিধান তারা পদে পদে লঙ্ঘন করেই চলেছে। গত দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় রাজনৈতিকভাবে দেশ ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে শুরু করে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবেও একই অবস্থা। সরকার ঢোল বাজাচ্ছে, চারদিকে শুধু উন্নয়ন আর উন্নয়ন। তাদের উন্নয়নটা পুরোটাই লোক দেখানো, ইউজল্যাস।

অর্থনৈতিক সব প্রতিষ্ঠান আজ ভেঙে পড়ার উপক্রম। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিদেশিরা বিনিয়োগে ভয় পাচ্ছে। ব্যাংকিংয়ের সব ব্যবস্থা কলাপস হয়ে গেছে। পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম। সরকারের মেগা প্রজেক্টে মেগা দুর্নীতি হচ্ছে। ১ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্টে ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। পদ্মা সেতু থেকে শুরু করে উড়ালসড়ক সর্বত্রই একই অবস্থা। যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে, তা গুটিকয় মানুষের হাতেই সীমাবদ্ধ। আয়ের বৈষম্য বেড়েছে।

বিদায়ী বছরটি কেমন গেল? রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন চাই।

বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১ সালে যুদ্ধই করেছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য। এটাই ছিল মূল চেতনা। কিন্তু এই সরকার গণতান্ত্রিক সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মানবাধিকার বলতে আজ কিছু নেই। সর্বশেষ বিচারব্যবস্থাকে তারা শেষ করে ফেলেছে। প্রধান বিচারপতিকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। আইনের শাসন বলতে এখন কিছু নেই।

শিক্ষাব্যবস্থা বলতেও আজ কিছু নেই। প্রতিদিনই প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। প্রাইমারি স্কুল থেকে বিসিএস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নও ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এ জাতি। কিন্তু এ সরকার চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। তারা যে উন্নয়নের রোল মডেলের প্রচার চালাচ্ছে, এই হচ্ছে সেই রোল মডেল।

এসব কারণেই আমরা মনে করি, সামনের বছরও ভালো হবে না। আমরা যারা বিরোধী দলে আছি, আমাদের দাবি একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। একটি জবাবদিহিমূলক সরকার ক্ষমতায় এলে দেশ এ অবস্থায় থাকবে না। আর এই সরকারব্যবস্থা আমরা চাইনি, এটা আওয়ামী লীগই চেয়েছিল। তাদের এই যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে সেদিন আমরা নির্বাচন দিয়েছি। কিন্তু তারা সে পথে নেই। তারা কোনো যুক্তি বা বাস্তবতার ধার ধারে না। তবে পৃথিবীতে অনেক দেশে অনেকেই জোর করে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তারা বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি।

সবচেয়ে বড় সমস্যা আজ মানুষের মনে শান্তি নেই, স্বস্তি নেই। কেউ আজ নিরাপদ নেই। আজ প্রশাসনের অত্যাচারে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। কোনো কিছু হলেই শুধু টাকা দাও, ঘুষ দাও। নইলে গুম, খুনের হুমকি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে মানুষকে হয়রানি করছে, তা কল্পনাও করা যায় না। সেজন্য নতুন বছরকে নিয়ে আমরা তেমন আশাবাদী হতে পারছি না বরং আমরা নির্বাচনী বছরটাকে মনে করছি, অস্থিরতার, অস্থিতিশীলতার ও সংঘাতের বছর। এটা বাংলাদেশের জন্য হবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

এটা কি নির্বাচন ঘিরে?

তাও হতে পারে। অর্থনীতির কারণেও হতে পারে। রোহিঙ্গা ইস্যুতেও হতে পারে। সব মিলিয়েই ক্ষেত্রগুলো তৈরি হয়ে আছে। যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে।

বিএনপির দায়িত্ব কী হবে?

সরকার যখন রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করে; যখন গুম-খুন অহরহ চলে; ফরহাদ মজহার, মাহমুদুর রহমান মান্না, আসিফ নজরুলের মতো গণ্যমান্য ব্যক্তিরা যখন নাজেহাল হন; সাংবাদিকরা নির্যাতিত হন; সরকার যখন নিজেই অন্যায়ভাবে জুলুম-নির্যাতন করে; বিরোধী দলের কর্মসূচি দমন করে তখন একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিই বা কী করতে পারবে। পুলিশের কর্মকর্তারা যখন বলেন, আমরা তুলে নিয়ে যাই বলি না, তখন এ দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় থাকে? তখন বিএনপির পারফর্ম করার কী থাকে? বিএনপির কোনো গণতান্ত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয় না। সে ক্ষেত্রে আমরা কীভাবে আশা করি, বিএনপি স্বাভাবিকভাবে তাদের গণতান্ত্রিক দাবিগুলো আদায় করবে। তার পরও এরই মধ্যে আমরা বহু ত্যাগ স্বীকার করেছি। আমাদের বহু নেতা-কর্মী মারা গেছেন। গুম হয়েছেন। এখন পর্যন্ত আমরা ঠাণ্ডা মাথায় রাজনীতি করছি। তাদের কোনো চক্রান্তে পা দিচ্ছি না। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যই কথা বলে যাচ্ছি।

সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপি কি কোনো রূপরেখা দেবে?

এটা অবশ্যই সময়মতো দেওয়া হবে। সেটা নতুন বছরেই দেওয়া হতে পারে। তবে দেওয়া না দেওয়া নির্ভর করবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর। এ সম্পর্কে এখনই বিস্তারিত বলা যাবে না, কৌশলগত কারণে। এটা নিয়ে সরকারের সঙ্গে একটি দরকষাকষি হবে। এটা যদি আগেই আমরা ঘোষণা করি, তখন তা নিয়ে আমরা ঝামেলায় পড়তে পারি। এ কারণে উপযুক্ত সময়ে রূপরেখা দেব। এখানে একগুঁয়ে হয়ে থাকা যাবে না। সরকার কিংবা বিরোধী দল সবারই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। কোনো কারণেই জনগণকে সাফার করতে দেওয়া যাবে না। আজ ভারতের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে সরকার সমঝোতা করে সমাধান করছে।

উলফাদের সঙ্গেও ভারত সরকার বসেছে। আসাম, মেঘালয়ে প্রায়ই গোলমাল হচ্ছে, সেখানেও সরকার বসে সমাধান করছে। বাংলাদেশেও সম্ভব। সব সমাধান হবে আলোচনার টেবিলেই। আমি মনে করি, আলোচনার টেবিলে খোলা মন নিয়ে বসতে পারলে অবশ্যই দুই দিনেই দেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। বেসিক জায়গাগুলোয় বেশি একটা সমস্যা নেই। সমস্যার মূল হচ্ছে, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে। আমরা মনে করি, ওই সময় সরকার পরিবর্তন হতে হবে। কোনোভাবেই শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান থাকতে পারবেন না। সংবিধান সংশোধন না করেই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। সংবিধানের মধ্যে থেকেই বহু পথ বের করা সম্ভব। ’৯০-এ এরশাদও তো সংবিধানের মধ্যে থেকেই সবকিছু পরিবর্তন করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে রেখে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। তাকে রেখে কাটছাঁট করে হবে না। তার নিজের অস্তিত্বের কারণেই সরে যাওয়া উচিত।

আগামী দিনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী?

এই সরকার আগামীতেও ক্ষমতায় থাকলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐকমত্যে পৌঁছানোর কোনো লক্ষণই নেই।

তো একটি দায়িত্ব আছে?

আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন গঠনেও একটি রূপরেখা দিয়েছি। ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করে নতুন প্রজন্মকে সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে স্বপ্ন দেখিয়েছি। ক্ষমতায় গেলে ভিশন বাস্তবায়নের সর্বাত্মক চেষ্টা হবে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপেও সুষ্ঠু নির্বাচনে বেশকিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছি। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের পর আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি কমিশনের কাছেও তুলে ধরেছি। তবে সরকারি দল তো মুখ ঘুরিয়ে আছে। বিরোধী দলের সঙ্গে তাদের কথা বলতে হবে। কথা না বলে জোর করে ক্ষমতায় থাকা বেশি দিন টিকবে না। পৃথিবীর ইতিহাস তা বলে না। আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জনমত তৈরি করছি। নেতারা জেলা সফর করছেন। নির্বাচন কমিশনের সংলাপেও ক্ষমতাসীন ১৪ দল ছাড়া প্রতিটি দলই সুষ্ঠু নির্বাচনে সেনাবাহিনী চেয়েছে। নিরপেক্ষ সরকার চেয়েছে। সব দলই আমাদের দাবির সঙ্গে একমত।

যথাসময়ে একাদশ জাতীয় নির্বাচন হবে কিনা?

এটা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল। রাজনীতি মুহূর্তে মুহূর্তে পরিবর্তন হয়। সরকার কী করবে, বিরোধী দল কী করবে, আন্তর্জাতিক মহল কী ভূমিকা পালন করবে, তা এখনই বলা যাবে না। তবে নতুন বছরটি রাজনীতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট। টার্বুলেন্ট ইয়ার।

আশাবাদী হওয়ার কোনো পথ খোলা আছে?

আশাবাদী হওয়ার একটাই রাস্তা, তা হলো তরুণ সমাজকে জেগে উঠতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের সংলাপ-সমঝোতায় বাধ্য করতে হবে। সমস্যার সমাধান করতে হবে। তারা কিছু না করে বসে বসে দেখবে, তা হবে না। একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের জন্য তাদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রায় দুই বছর ধরে আপনি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব, দল পরিচালনায় নিজেকে কতটুকু সফল মনে করেন?

আমি মনে করি, এই দুই বছরে বেশকিছু কাজ করতে পেরেছি। কতটুকু সফল তা মূল্যায়ন করবে দল। এরই মধ্যে আমরা অনেক জেলা কমিটি দিতে পেরেছি। অঙ্গসংগঠনগুলোরও নতুন কমিটি। হামলা-মামলা, গুম-খুন সত্ত্বেও কর্মীরা আজ সক্রিয়, উদ্দীপ্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিন মাস লন্ডন সফরের সময় আমরা বহু কাজ করেছি। উত্তরবঙ্গে সফলভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম করেছি। ম্যাডাম আসার পর তাকে নিয়ে উখিয়া গিয়েছি রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবার আগে বিএনপিই ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে। ম্যাডামকে সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে, রাস্তায় মানুষের ঢল নেমেছে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক জনসভা করেছি। এগুলোয় আমি আশাবাদী।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ও অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো উদ্বেগ আছে কিনা?

বিশ্বরাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয়তাবাদী নেতাদের এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। অনেককে জীবন দিতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের চেয়ারপারসন মামলা ফেস করছেন। প্রতি সপ্তাহেই তিনবারের প্রধানমন্ত্রী আদালতে যাচ্ছেন। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি আপসহীন। একে আমরা তেমন কোনো সমস্যা মনে করি না। সরকার যত নির্যাতন করবে, বিএনপি ততই আরও শক্তিশালী হবে। বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা বাড়বে। এটাই বাস্তবতা। জেল দিয়ে একটি দলকে শেষ করা যায় না। শেখ মুজিবকেও পারেনি। এটা সরকারের চিন্তা করা উচিত।

মামলায় সাজা নিয়ে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হলে বিএনপি কী করবে?

ম্যাডামের নির্বাচনে অযোগ্য হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তা ছাড়া ম্যাডাম কোনো কারণে জেলে গেলেও নেতৃত্বশূন্যতায় পড়বে না বিএনপি। ছয় দফা আন্দোলনের সময় যখন আওয়ামী লীগের সব নেতাকে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছিল, তখন কি কোনো সমস্যা হয়েছিল? আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বাতি দেওয়ার লোক ছিল না। তার পরও আওয়ামী লীগকে দমাতে পারেনি। ’৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের সময় বিএনপিকে দমাতে পারেনি। ’৮২ সালে এরশাদ এসেও বিএনপিকে দমাতে পারেননি। এ ছাড়া ওয়ান-ইলেভেনসহ গত ১০ বছরে কয়েক দফায় বিএনপিকে নির্মূল করার চেষ্টা হয়; কিন্তু সরকার তো পারেনি। খালেদা জিয়ার তিন মাস দেশে অনুপস্থিতিতেও বিএনপিতে কোনো ক্রাইসিস হয়নি। ঐক্যবদ্ধভাবে দল চলেছে। বিএনপি এখন সবচেয়ে শক্তিশালী দল। সুতরাং নেতৃত্ব সংকটের সৃষ্টি হবে না।

বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদী কতটুকু?

আমি আশাবাদী এ কারণেই, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। এটা আমি নিশ্চিত আগামীতেও তাই হবে। বেগম জিয়াকে নিয়ে আমরা সারা দেশে মার্চ করতে শুরু করেছিলাম, এটা কনটিনিউ করতে পারলে আমি জোর দিয়ে বলছি, এ দেশে গণঅভ্যুত্থান হবে। তারা মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু পারেনি, পারবেও না। তিনি রাস্তায় বেরোলে লাখ লাখ লোক রাস্তায় বেরোচ্ছে। বংশীকবাদকের মতো। ম্যাডাম দিন-রাত কাজ করতে পারেন।

বঙ্গবন্ধু স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন: ড. কামাল

সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, এদেশ কোনো ব্যক্তির নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়, কোনো দলের নয়-এদেশ জনগণের। এদেশে অন্যায় করে কেউ পার পায়নি। অন্যায় ভাবে কোনো দিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। গত ৪৭ বছরে অনেকেই ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করেছে, কেউ পারে নাই। ভবিষ্যতেও কেউ পারবে না।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে গণফোরাম আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভার সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, নিজের দলের প্রতি এক রকম বিচার, বিরোধী দলের প্রতি আরেক রকম বিচার-এটা আইনের শাসন হয় না। এটা স্বৈরশাসন। বঙ্গবন্ধু স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের কথা বলে গেছেন, রাজতন্ত্রের কথা বলেননি। বঙ্গবন্ধু লিখে দিয়েছেন এদেশ চলবে গণতন্ত্রে-রাজতন্ত্রে নয়। এদেশ কখনো রাজার অধীনে থাকবে না। জনগণের প্রতিনিধিরা দেশ চলাবে। জনগণের প্রতিনিধি কারা-যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে যে সংবিধান দিয়ে গেছেন সে সংবিধানের মূল কথা দেশের মালিক জনগণ। একজন জনগণ হিসেবে আমি দেশের মালিক, আমার অধিকার আছে ভোট দিয়ে আমার প্রতিনিধি নির্বাচন করার। সে অধিকার থেকে আজ জনগণকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

ড. কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর লিখিত দলিলে (সংবিধানে) জনগণের যে স্বপ্নের কথা লেখা আছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা শোষণ করে, অর্থ আত্মসাৎ করে, দুর্নীতি করে-তারা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করছে? কেউ যদি অন্যায়ভাবে দেশের সম্পদ আত্মসাৎ করে, পাচার করে-ক্ষমতায় থাকলেই তা কি কখনো বৈধ হয়ে যায়?

তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানী শাসকরা যা করেছে, এখন যারা দেশ থেকে পুঁজি পাচার করছে, তারা কী একই কাজ করছে কী-না? উপস্থিত জনতা তখন স্বতঃস্ফুতভাবে হ্যাঁ বলে ওঠেন। এ সময় তিনি জানতে চান আমার বক্তব্য কোনো দলের সাথে বিরোধীতা নয়, তবে বঙ্গবন্ধু যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন সে দায়িত্ব থেকে আমরা কী মুক্ত থাকতে পারি? আমরা কী জনগণের সাথে বেঈমানী করতে পারি? উপস্থিত জনতা তখন সমস্বরে না বলে তাদের প্রতিক্রিয়া জানান।

ড. কামাল বলেন, আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। মানুষের মাঝে যেতে হবে, তাদের অধিকারের কথা বলতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলতেন, বড় অর্জনের জন্য প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ জাতি, এখন ঐক্যর ডাক পৌঁছে দিতে হবে। সবাই মনে করছে পেয়ে গেছি, হয়ে যাবে।

কিন্তু এসব করে কেউ সাময়িকভাবে পার পেয়েছে-ভোগ করার সুযোগ পায়নি। মনে রাখবেন ঐক্যবদ্ধ হলে জনগণের জয় হবেই। এ সময় তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে ন্যায় প্রতিষ্ঠার কাজ করে যেন মরতে পারি।

আলোচনা সভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দকী বীর উত্তম বলেন, এই সরকার বৈধ নয়, সরকারকে যে মনোনীত করে সেই সংসদও বৈধ নয়। সংবিধানে পরিষ্কার লেখা আছে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠিত হবে। ১৫৪ জন তো প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হননি।

খালেদা জিয়াকে নখড়া করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় লজ্জা হয়, যখন দেখি সরকারের এটর্নি জেনারেল বেগম খালেদা জিয়ার আপিলের বিরোধীতা করছে। এটা তো দুদকের মামলা, সরকার দাঁড়াবে কেন? এজন্যই জার্মান না কোন দেশ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে স্বৈরশাসন চলছে। তিনি আরো বলেন, যে টাকা খরচ হয়নি, সেই টাকার জন্য মামলা দিয়েছেন। এটা হতে পারতো টাকা কেন খরচ হয়নি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের রাজনীতির দুর্ভাগ্য হলো বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আওয়ামী লীগকে মারে, আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপিকে মারে। এটা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে বাদ দিয়ে

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় সরকার কায়েম করা। মুক্তিযুদ্ধে তার লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে কাদের সিদ্দকী বলেন, যুদ্ধচলাকালীন মেঘালয়ের পাড়াড়ে বসে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলো। সেদিন আব্দুর রাজ্জাক তাদেরকে বলেছিলেন, মারামারি পরো করো, আগে দেশটা স্বাধীন করতে দাও।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, যুদ্ধ করতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলাম। বর্তমান সরকারকে স্বৈরাচারী সরকার আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এবার ২০০১৪ সালের নির্বাচন সম্ভব নয়। তারপরও কোনভাবে

ক্ষমতা দখল করতে পারলেও আওয়ামী লীগ দেশ চালাতে পারবে না। দেশ সিরিয়ায় পরিণত হবে। আগামীতে বিএনপি জিতলেও বিশৃঙ্খলা হবে, নৈরাজ্য হবে। খালেদা জিয়াও তা ঠেকাতে পারবেন না। সে জন্য দেশ বাঁচাতে হলে দরকার ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যর সরকার।

ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মাদ মুনসুর বলেন, একজন শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা তৈরি করার পেছনে বহু মানুষের শ্রম-ঘাম আছে। আজ বড় দুখ হয় যখন দেখি সেই বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। মহল্লার মাস্তান, চাদাঁবাজরা পোস্টারে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গনফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, আবম মোস্তফা আমিন প্রমুখ।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ৪১টি মামলা

পাওনা পরিশোধ না করায় ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা ও বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদায়ী বছর (২০১৭ সালে) মামলা হয়েছে। পাওনা টাকার জন্য ১ টি মামলা করেন ঢাকার সাভারে মেসার্স তাজ এন্টারপ্রাইজের মালিক ব্যবসায়ী মো. বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ। আর ৪০ টি মামলা করেন তার নিজের কোম্পানীর কর্মীরা।

সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত কোটি টাকা পাওনা আদায়ের মামলায় গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ মার্চ ঢাকার সাভারে মেসার্স তাজ এন্টারপ্রাইজের মালিক ব্যবসায়ী মো. বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ বাদী হয়ে ঢাকার দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ মো. শাহাদাত হোসেনের আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত এ বিষয়ে জবাব দাখিলের জন্য সমন জারি করেন।

মামলার তথ্য থেকে জানা যায়, ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন জিরাবোতে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট ১৬২ বিঘা জায়গার ওপর ‘ঘোষবাগ’ প্রকল্পে আংশিক জায়গায় বালু ভরাটের জন্য বাদীর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিবাদীদের ৫০ লাখ সিএফটি বালু ভরাটের চুক্তি হয়। বাদীর প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী চার কিলোমিটারজুড়ে পাইপ স্থাপন করে ২০১৫ সালের জুন থেকে নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত প্রায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বালু ভরাট করে।

ওই টাকার মধ্যে বিবাদীরা বাদীকে এক কোটি সাত লাখ ৫১ হাজার ৭৮৪ টাকা বিল প্রদান করেন। অবশিষ্ট চার কোটি ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৪২৬ টাকা পাওনা হলে বাদী তা দেয়ার জন্য চারটি বিল সাবমিট করলেও বিবাদীরা তা দেননি।

টাকা না দেয়ায় বালু ভরাট বন্ধ করে দেন তিনি। বাদী তার পাওনা টাকা আদায়ের জন্য লিগ্যাল নোটিশ দিলেও বিবাদীরা তা দেননি। এতে বাদী চার কোটি ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৪২৬ টাকার সঙ্গে দুই কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা ডেমারেজ ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল হাসান, গ্রামীণ টেলিকমের সিএফও ও বোর্ড সেক্রেটারি, ডেপুটি ম্যানেজার মো. মাহমুদ, প্রতিষ্ঠানটির আইনসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এজিএম ও বিভাগীয় প্রধান

প্রতিষ্ঠানটির টেকনিক্যাল বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. আসাদ, বিশ্বজিৎ কুমার, প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভে অ্যান্ড ডিজাইনের মতিয়ার রহমান।

অন্যদিকে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ও বর্তমান কর্মীরা ঢাকার শ্রম আদালতে দায়ের ৪০ মামলা দায়ের করেন।

মামলাগুলোতে ড. ইউনূসকে জবাব দাখিলের জন্য জারি করা হয়েছে সমন। সমনের জবাব দাখিলের জন্য ২০১৮ সালের শুরু দিকে দিন ধার্য রয়েছে।

যেসব অভিযোগে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণ টেলিফোনে এক-তৃতীয়াংশ শেয়ার রয়েছে গ্রামীণ টেলিকমের। এই প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কর্মীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা দেয়া হয়নি।

২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ টেলিকমের মুনাফা হয়েছে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এই মুনাফার অংশ কর্মীদের পরিশোধ করা হয়নি।

গত দশকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ২১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে পাঁচ শতাংশ অর্থাৎ ১০৮ কোটি টাকা কর্মী ও সরকারকে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই অর্থের ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কর্মীদেরকে পরিশোধ ও ১০ শতাংশ সরকার এবং ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ ফান্ডে জমা দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, দারিদ্র্য বিমোচনে গ্রামীণ ব্যাংক সফলতা অর্জন করায় ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পান এই একমাত্র বাংলাদেশি ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বিএনপি টোটালি ইডিয়ট পার্টি, লিডাররা স্টুপিড: আবুল মাল আব্দুল মুহিত

বিএনপিকে ইডিয়ট পার্টি বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিগত জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দলটি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সেসময় একতরফা নির্বাচন তো আমরা করিনি।

এটা ইডিয়ট পার্টি করেছে, টোটালি ইডিয়ট পার্টি। আমরা তো তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি, তোমরা অন্তর্বর্তী সরকারে আসো। তাদের স্টুপিড লিডাররাই তো এটা করেছে। এবার আর করবে না।’

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদায়ী বছর নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সব সরকারই অংশগ্রহণমূলক সরকার। আগামীতেও হবে। আশা করি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে সবাই অংশ নেবে এবং উন্নয়নের সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ জিতবে।

নতুন বছরের অর্থনীতি নিয়ে আশা প্রকাশ করে মুহিত বলেন, ২০১৮ সাল হবে অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তির বছর। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী এসময় ব্যাংকিং খাত, আগামী জাতীয় নির্বাচন, চলমান রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে কোনো ঝুঁকি নেই।

ব্যাংক ফেল করার কোনো চান্স নেই। সুতরাং আস্থার সংকট হবে না। ২০১৭ সালে কোনো সহিংস হরতাল হয়নি। কোনো মারাত্মক কিছু ঘটেনি। মানুষের স্বস্তি অনেক উচ্চমাত্রায় উঠে এসেছে।

সোস্যাল সিকিউরিটি খুবই ভালো। চালের দাম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা ব্যবসায়ীদের কারণে হয়েছে, এটা হওয়া উচিত না। এক্ষেত্রে সরকারের কোনো গাফিলতি নেই বলে মনে করেন তিনি।রোহিঙ্গা ইস্যুতে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সেখানে বিদেশি, সরকারি-বেসরকারি সাহায্য করা হচ্ছে। দাতাদের কাছে সাহায্য চাচ্ছি, দেখি কী আসে। ইতোমধ্যে অনেকেই সাড়া দিয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে রাখাইনে স্বতন্ত্র রোহিঙ্গা জোন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারি কর্মচারীদের চাকরির বয়স ৬২ করা হচ্ছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, হ্যা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছি।

এখনো কোনো সাড়া পাইনি।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবনায় বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, বিদ্যুত্ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার নাম রয়েছে।

এদের কেউ নিয়োগ পেতে পারেন। তবে সেটা নির্ভর করছে একান্ত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিষয়।ফারমার্স ব্যাংক সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটিকে এর উদ্যোক্তারাই শেষ করে দিয়েছে।

সরকার এটা দেখছে। ফারমার্স ব্যাংকের জন্য বেস্ট সলিউশন হবে এটা যদি অন্য কোন ব্যাংকের সাথে মার্জার করে। এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অন্য ব্যাংকের সাথে ফারমার্স ব্যাংকের মার্জারের ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা ঠিক করবে।ফারমার্স ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, হ্যা, নেয়া প্রয়োজন। কারণ ব্যাংকটির বর্তমান অবস্থার জন্য তারাই দায়ী।

তিনি বলেন, তবে ব্যাংক দেউলিয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোন চান্স নেই। ব্যাংকে আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের একজন মেধাবী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ফারমার্স ব্যাংক নিলো, কিন্তু সেখানে উনি সফলতা পাননি। ব্যাপারটি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ খাতে তার যাওয়া ঠিক হয়নি

যে কারনে এসপি হারুনের প্রত্যাহার চায় বিএনপি

আবারও গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশিদের প্রত্যাহার দাবি করেছে বিএনপি। পুরোনো এই দাবি নিয়ে গাজীপুর সিটির ভোটের দুই দিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। পুলিশ সুপার প্রত্যাহার না করলে গাজীপুরে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।

রোববার (২৪ জুন) দুপুরে সিইসিসহ অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

বেলা দুইটার পর নির্বাচন কমিশনে আসে বিএনপির প্রতিনিধি দলটি। সিইসিসহ বাকি চার নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে তাদের দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান ও বরকত উল্লাহ বুলু।

মঈন খান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ভাল নির্দেশনা দিচ্ছে। কিন্তু নির্দেশনা গুলো প্রতিপালিত না হয়ে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন অঙ্গ নির্দেশনা উল্টো করছে। সরকারের প্রশাসন নির্বাচনের কাজে হস্তক্ষেপ করছে।

এখন পুলিশ গিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করলে তো নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মানা হলো না। পুলিশের কাজ তো নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করা না। কিন্তু খুলনায় অনেক জায়গায় দেখা গেছে পুলিশ নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, একজন মানুষের কারণে পুরো নির্বাচন আজ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়বে। সেই মানুষকে যেন প্রত্যাহার করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের আছে। সেই ক্ষমতা আপনারা ব্যবহার করুন। সেই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করুন। আমরা সেই অনুরোধ করেছি।

খালেদা জিয়াকে নিয়ে মাহমুদুর রহমানের সেই কলাম : বন্দী শিবিরে একজন

প্রায় বছরখানেক পর হাতে কলম নিলাম। পরাধীন দেশে কোথায় বা লিখবো, আর সেটা পড়বেই বা কে? এক বছর আগে সাংবাদিক সংগঠন বিএফইউজের বার্ষিক প্রকাশনায় একটা নাতিদীর্ঘ লেখা দিয়েছিলাম।

এবারও ওদের আগ্রহেই কালি-কলমের এই অর্থহীন ব্যবহার। লেখার শুরুতেই তারিখটা বলে রাখি। আজ ৯ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৮। ঢাকা শহরের নাজিম উদ্দিন রোড়ের অপরিচ্ছন্ন, অস্বাস্থ্যকর, পরিত্যক্ত, জেলখানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এক রাত কাটানো হয়ে গেছে।

উনিশ শতকের নির্মিত সেই খন্ডহরে তিনিই একমাত্র বন্দী। ক্ষমতাসীন, অবৈধ সরকারের বংশবদ আদালতে এক ভুয়া, জালিয়াতিমূলক মামলায় তাকে পাঁচ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে। গতকাল থেকেই মনটা বড়ই বিক্ষিপ্ত।

দিল্লির তাবেদারির অধিন ভূখন্ডের আদালত, পুলিশ, কারাগার, সরকার, সেনাবাহিনী এবং সর্বোপরি ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়া মানুষদের অসহায়ত্ব নিয়ে এত কথা জমে আছে যে, কোন বিষয়ে গুছিয়ে লেখা আমার সাধ্যাতীত। পাঠক নিজগুনে এই অগোছালো লেখাকে ক্ষমা করবেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরকারেরর অভিযোগ তিনি নাকি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ করেছেন যা কিনা শেখ হাসিনার ভাষায় এতিমের টাকা মেরে খাওয়া।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্র্রপতি প্রনব মুখার্জীর অধিনস্ত বাংলাদেশের সামরিক কর্তা, খর্বকায় জেনারেল মইনের এক এগারোর প্রচ্ছন্ন সামরিক সরকার (Quasi-military regime) ভুয়া মামলাটি এক দশক আগে দায়ের করেছিল।

এই দূর্ভাগা দেশের সাবেক সেনাপ্রধান যে প্রনব মুখার্জীর হুকুমে চলতেন সেই তথ্য প্রবীণ কংগ্রেসী নেতা তার রাজনৈতিক আত্মজীবনী মূলক বইয়ে (The Coaliton Years, c„ôv 114-115) কোন রাখডাক না করেই প্রকাশ করেছেন।

নীরব থেকে জবাব দেবে জামায়াত

৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় বিপক্ষে গেলে মাঠে সক্রিয় থাকার ইস্যুতে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর।

দলটির দায়িত্বশীলরা বলছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের একের পর ফাঁসির রায় এবং পরবর্তীতে রায় কার্যকরের সময় জামায়াত বিএনপি পাশে থাকবে দূরের কথা একটা বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি। তাই জামায়াতও এখন নীরব থেকে বিএনপির সেই নিষ্ক্রিয়তার জবাব দিতে চায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের মজলিসে শূরার এক সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিএনপির দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য জামায়াত জোট করেনি।

বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের নির্বাচনী জোট। খালেদার মামলার বিষয়টি মোকাবিলা করবেন তাদের নেতা-কর্মীরা। তবে সরকার সাজানো মামলায় তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির চেষ্টা করছে।

এজন্য আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি জানান, রায় বিএনপি চেয়ারপারসনের বিপক্ষে গেলে জামায়াতের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়া হবে।

জানা যায়, বেগম খালেদা জিয়ার শাস্তির আশঙ্কা করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এ আশঙ্কায় রায় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

এ সময় শরিক দলগুলোকে মাঠে চায় বিএনপি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ইস্যুতে একেবারেই নীরব জামায়াত। গ্রেফতারের ভয়ে দলটির নেতা-কর্মীরা বাড়ি ও এলাকাছাড়া।

জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরাও এ ইস্যুতে মাঠে নামতে চাইছেন না। এ ব্যাপারে জামায়াতের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মামলা ইস্যুকে পুঁজি করে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চায় জামায়াত।

তারা এই পরিস্থিতিতে বিএনপিকে বোঝাতে চায় জামায়াত ছাড়া সরকারকে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া ২০-দলীয় জোটে বিএনপি প্রধান ও বড় দল হলেও জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি তাদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

তাই খালেদা জিয়ার মামলা ইস্যুতে তাদের নেতা-কর্মীদের মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। যাতে সরকারের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএনপির দুর্বলতা প্রমাণ হয়। তা ছাড়া তারা এ মুহূর্তে মাঠে নেমে নতুন করে মামলা-মোকদ্দমায় জড়াতে চায় না।

খালেদার জন্য মাঠে নেমে নির্বাচনের আগে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি খোয়াতে চায় না জামায়াত। তারা মনে করছে, এ ইস্যুতে নীরব থাকলে হয়তো সরকার তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড করতে দেবে।

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মামলার ইস্যুতে বিএনপিকে কড়া জবাব দিতে চায় জামায়াত। যুদ্ধাপরাধের মামলায় নেতাদের ফাঁসির রায় ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপিকে মাঠেঘাটে চেয়েছিল তারা। কিন্তু পাশে পায়নি তাদের। এ ইস্যুতে একপর্যায়ে জোট ভাঙার উপক্রম হয়।

খালেদাকে মুক্তি না দিলে ‘গণঅভ্যুত্থান’ হবে

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে দেশে গণঅভ্যুত্থান হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা। গণঅভ্যুত্থানের জন্য বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রস্তুত আছে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ‘গণতন্ত্র কিভাবে মুক্ত করতে হয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তা ভালো করেই জানেন।’

শনিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরী বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতারা বলেন, ‘রাতের পর ভোর আসে। বাংলাদেশের আকাশেও নতুন সূর্যের উদয় হবে। বেগম জিয়াই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

তখন এ সরকারের সকল কর্মকাণ্ডের বিচার করা হবে। হলমার্ক, ব্যাংক লুটপাট, শেয়ারবাজার ধ্বংস, উন্নয়নের নামে মহালুট সবকিছুর বিচার হবে। আওয়ামী লীগ নেতারা এত বেশি দুর্নীতি করেছে যে তখন দেশ ছেড়ে পালাতেও পারবে না।’

এসময় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে এদেশে কোনও নির্বাচনহবে না।

দেশের গণতন্ত্র আজ গণভবনের চার দেয়ালে আবদ্ধ। সরকার পুলিশ ও প্রশাসনকে দিয়ে যা ইচ্ছে তা করছে। এক দেশে দুই দলের জন্য দুই আইন জারি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সড়কে লাঠি নিয়ে নামছে আর বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

মামলা-নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু ইতিহাস বলে স্বৈরাচার স্থায়ী হয় না। ইতিহাস তাদের আস্তাকুড়েঁ নিক্ষেপ করে। বাংলাদেশেও একই ইতিহাস রচিত হবে। শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত।’

নগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক দল নেতা এম নাজিম উদ্দিন, বিএনপি নেতা ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শাহ আলম, বেলায়েত হোসেন বুলু, কাজী বেলাল,মোশারফ হোসেন দীপ্তি ও কামরুল ইসলাম।

এদিকে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে নাসিমন ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এম এ হালিমের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি অধ্যাপক ইউনুস চৌধুরী, চাকসু ভিপি মো.নাজিম উদ্দিন, মো. ছালাউদ্দিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আমিন, নুর মোহাম্মদ, আজম খান, জসীম সিকদার, সেকান্দর চৌধুরী, আবদুল আউয়াল চৌধুরী, জসীম উদ্দিন চৌধুরী, সেলিম চেয়ারম্যান, মোস্তফা কামাল পাশা ও ডা.খুরশিদ জামিল প্রমুখ।

‘গাজীপুরে আগের রাতেই ব্যালটে সিল মেরে রাখা হবে’

গাজীপুর সি‌টি করপোরেশন নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিলমারা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি- যেসব কেন্দ্রে তিন হাজারের বেশি ভোট আছে, সেসব কেন্দ্রে আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে রাখা হবে। নির্বাচনের দিন বাক্স পরিবর্তন করে সিলমারা ব্যালট পেপার রাখা হবে।

’তিনি দাবি করেন, গাজীপুর সি‌টি নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হলে বিএন‌পির প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা শতকরা ১০০ ভাগ। আশাবাদী লক্ষা‌ধিক ভোটে জয়লাভ করব। তবে আশঙ্কা এজেন্টা কেন্দ্রে থাকতে পারবে কি না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ন্যূনতম ভোটা‌ধিকার যেন বজায় থাকে সেজন্য সি‌টি নির্বাচনে আমরা অংশ নি‌চ্ছি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। এটা নির্বাচন কমিশনের জন্য টেস্ট কেস। আর তা দেখেই আমরা পরবর্তী তিন সিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

এসময় গাজীপুর সি‌টি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনকে যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় নির্বাচন ক‌মিশশনে পদত্যাগ করতে হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।তিনি বলেন,

সম্পূর্ণ দলীয় লোকজনদের দিয়ে নির্বাচন ক‌মিশন গঠন করা হয়েছে। আমরা দুঃ‌খের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম সরকারের নীলনকশা অনুযায়ী নির্বাচন ক‌মি‌শন কাজ করে যাচ্ছে। যার প্রমাণ দেখতে পেয়েছি খুলনা সি‌টি নির্বাচনে।

গাজীপুর পু‌লিশ সুপার হারুন অর রশীদকে অন্যত্র বদলির দা‌বি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গাজীপুরের পু‌লিশ সুপারের আওয়ামী লী‌গের দলীয় দা‌য়িত্ব পালনে সুনাম রয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তাকে সরিয়ে দেয়া উচিত।

ভোটারদের প্র‌তি আহ্বান জানিয়ে তি‌নি ব‌লেন, গাজীপুরের ভোটাররা ভোট দিতে চায়। আপনারা বাধা-বিপ‌ত্তি অ‌তিক্রম করে ভোটকেন্দ্রে যান, ভোটা‌ধিকার প্রয়োগ করুন।

দুই সিটির প্রার্থী ঘোষণা- সিটি নির্বাচনে রাজশাহীতে বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল আর বরিশালে দলের যুগ্ম-মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ারকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

সিলেট সিটির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে সোমবার।সিলেটে মেয়র পদে জামায়াতকে ছাড় দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, ফজলুল হক মিলন প্রমুখ।

‘আওয়ামী লীগ ফাঁদে পড়ে গেছে’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়ে আওয়ামী লীগ ফাঁদে পড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার(২২ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘জিয়া পরিষদ’ নামের একটি সংগঠনের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

‘বেগম খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবি’ শীর্ষক এ সভায় আমির খসরু বলেন, ‘বেগম জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে আওয়ামী লীগ নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই পড়ে গেছে। এটা এখন স্পষ্ ‘।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জনগণের উপর আস্থা নেই বলেই আওয়ামী লীগ, জনগণকে নির্বাচনের বাইরে রেখে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে।

সরকারের উন্নয়নের মিছিলের সমালোচনা করে আমির খসরু বলেন, উন্নয়ন মিছিলের কথা কখনো কি শুনেছেন? এসব কর্মকাণ্ড সরকারের দুর্বলতাই প্রকাশ করছে। তাদের দুর্বলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন উন্নয়ন মিছিল করতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের সাধারণ মানুষের কোনো উন্নয়ন হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

সাবেক এই বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও আইনের শাসন হরণ এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে হলে বেগম জিয়াকে কারাগারে রাখার বিকল্প নেই। আর সে কারণেই আওয়ামী লীগ পরিকল্পনা করে বেগম জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে।

তিনি বলেন, দেশের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কবির মুরাদের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহাজাহান, উপদেষ্টা আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।